তালুকদার হাট সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন -পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অক্টোবর ১৭ ২০২০, ১৯:০০

Sharing is caring!

বরিশাল রিপোর্টঃ পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি বলেছেন, করোনার জন্য গোটা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক যে উন্নয়ন ছিলো, তা ক্ষনিকের জন্য হলেও থমকে গেছে।
বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার মধ্যেই দুই হাতে মানুষকে প্রণোদনা দিয়েছেন।
এতোগুলো টাকা দিবো কি দিবো না, এধরণের চিন্তা একবারও করেননি। কল-কারাখানা, পরিবহনসহ যে সব সেক্টরের মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো তাদের কথা চিন্তা করেই প্রধানমন্ত্রী দুই হাতে টাকা বিলিয়েছেন।
এটাতে এমনিতেই প্রমাণ হয় যে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, কষ্টের কথা সবসময় চিন্তা করেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে স্থানীয় এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকি সড়কের তালুকদারহাটে ৩৭.৯২ মিটার দৈর্থ্য যে সেতুটি করা হচ্ছে।  এটি নির্মাণ শেষ হলে এখানাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়ে যাবে, অনেকের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।
স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেতুর কাজ যেন সঠিকভাবে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সঠিক কাজ না হলে সড়ক ও জনপদ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলবেন, তিনি ব্যবস্থা নিবেন। কারণ আপনার এলাকার ব্রিজ আপনাকে বুঝে নিতে হবে। ৫ বছর পরে ভেঙ্গে গেলে দ্বিতীয়বার করা সম্ভব হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে ভোট চাইতে এসে নেহালগঞ্জের ব্রিজটা আমি করে দেয়ার কথা বলেছি। তখন ১ লক্ষ ভোট আপনারা দিয়েছিলেন কিন্তু তারপরও আমি ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। তবে ওই ১ লাখ ভোটের জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। গত ১০ বছরে অনেক অনেকভাবে চেষ্টা করেছে যাতে আমি বরিশাল ছেড়ে চলে যাই। যাতে করে এখানে লুটপাট করা যায়। কিন্তু আমি এখানে লুটপাট করতে আসিনি, এসেছি জনসেবা করতে। রাজনীতি নয় জনগনের সেবা করতে এসেছি। যাতে এ এলাকার উন্নয়ন আমি করতে পারি।
তিনি বলেন, কথা অনুযায়ী অনেক চেষ্টা করে নেহালগঞ্জে ব্রীজ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ব্রীজ নির্মাণ হলে ওই এলাকার মানুষেরও দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়া করান। প্রশ্ন সহজ হলেও অনেকেই চাকুরীর পরীক্ষায় গিয়ে কিছুই লিখতে পারছে না। কিছুই যদি লিখতে না পারে চাকুরী কিভাবে হবে। চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নুন্যতম তো কিছু নিয়মনীতির প্রয়োজন রয়েছে। নিজের ভিত মজবুত না হলে আমি কেন, কোন নেতাই চাকুরী দিতে পারবে না। কিছুটা লেখাপড়া জানতে হবে। অভিভাবকদের বলবো সন্তনরা স্কুল-কলেজে নিয়মিতো যায় কিনা, লেখাপড়া করে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়েই কিন্তু দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়ন হচ্ছে, এছাড়া কোন সরকারের সময় হয়নি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর হচ্ছে।  আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়বে, কিন্তু ভর্তির জন্য যে যোগ্যতার প্রয়োজন তা না থাকলে বাহিরের ছেলেরা এসে ভর্তি হবে। আমাদের এখানে গ্যাস আসবে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে, শিল্প-কারখানা হবে। সেই শিল্প-কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, কিন্তু যোগ্যতা না থাকলেও সেখানেও বাহিরের লোক এসে চাকুরি করবে। তাই রাগারাগি-মারামারি নয় বুঝিয়ে বলুন, যেন সন্তানরা লেখাপড়া করে। তাহলে আমি ইনশ্আল্লাহ আপনাদের ছেলে-মেয়েদের চাকুরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি রাজনীতি নয়, জনগনের অর্থাৎ আপনাদের সেবা দেয়ার জন্য এসেছি।  অনেক ধরণের লোক আছে, তারা টিআর-কাবিখা’র গম চুরি করে। এটা গরীব মানুষের গম, এটা চুরি করা যে অন্যায় তা তারা কি বোঝে না। সবথেকে বড় কথা হলো আপনাদের টাকা চুরি করে যাবো কোথায়, মরলে তো সাড়ে তিনহাত মাটিতে দাফন করা হবে। মন্ত্রীর জন্য তো ভিন্ন কবর হবে না। মন্ত্রী আর সাধারণ মানুষ সবাই-ই কিন্তু সাড়ে ৩ হাত মাটিতে ঘুমায়।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি জনগনের চিন্তা করেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী হিসেবে, তার যে নির্দেশনা, তিনি যেটা চান, যেটা পছন্দ করেন সেটা যাতে করতে পারি সেজন্যই রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি।
বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌলশী মোঃ মাসুম খান, বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুনিবুর রহমান, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাহামুদুল হক খান মামুন, জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জোবায়ের আব্দুল্লাহ জিন্নাহ, চাঁদপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মীর বাহাদুর হোসেন কামাল সহ প্রমুখ।


লিড আরও

shares