যে কারণে বাংলাদেশ টিকটক এবং লাইকি বন্ধ করা প্রয়োজন

অক্টোবর ১৫ ২০২০, ১৮:০২

Sharing is caring!

মারুফ আহমেদ মল্লিকঃ ভিডিও ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক এবং লাইকির মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং মেধা শূন্যতার  দিকে ধাবিত হচ্ছে । স্কুল , কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধিকাংশ তরুন শিক্ষার্থীরা স্মার্ট ফোন এবং ইন্টারনেট আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে । টিকটক এবং লাইকিতে প্রশংসা কুড়াতে তারা নির্মাণ করছে ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও ।
ভিডিও নির্মাণে তারা চলন্ত ও ব্যস্ততম সড়কেও অতি উৎসাহী ভুমিকা পালন করছে । রাজধানীর গুলশানে টিকটিক অপু কথিত ভিডিওর শুটিং করতে গিয়ে যা ঘটাল সে সম্পর্কে আমরা সাধারণত মানুষ অবগত হয়েছি এবং হতাশও হয়েছি।
 টিকটক বা লাইকি তারকা হতে তরুণ প্রজন্মের কিছু অংশ অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে । সামাজিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে ।এ বিষয়ে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
 টিকটক বা লাইকিতে যেসকল ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে তার অধিকাংশই  নৈতিকতা বর্জিত এবং মার্জিত আচরণের বিপরীত ।টিক টক – লাইকির মাধ্যমে কিশোর গ্যাং সংগঠিত হচ্ছে ।তারা জড়িয়ে পড়ছে ভয়ানক অপরাধে । এ সকল নিন্মমানের এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভিডিওর নির্মাণ, প্রদর্শন এবং অনুস্মরণের ফলে আগামিদিনে  নতুন প্রজন্মের মাঝে আচরণগত অসুস্থতা পরিলক্ষ হতে পারে ।দেশের বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী এবং অপরাধ বিজ্ঞানীগণ এ বিষয়ে গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ।
 মান যাই হোক এসকল ভিডিও নির্মাণের মূখ্য উদ্দেশ্য প্রচার। হিসেবটা এখানে লাইক, কমেন্ট আর ফলোয়ারের। টিকটিকের শ্যুটিং চলে রাজধানীর উন্মুক্ত প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্রে। দলবেঁধে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের এ শ্যুটিংয়ে প্রতিযোগিতাও চলে পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন। দর্শনার্থীদের অসুবিধে হলেও  প্রতিবাদের সাহস পায় না সাধারণ মানুষ। ভিডিও বানাতে গিয়ে  তরুণ – তরুণীরা দর্শনার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে এবং দিনভর দর্শনীয় এলাকাগুলো দখল করে রাখছে । ফলে আগামিদিনে পর্যটনখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পরতে  পারে ।
রাজধানীর নিকটবর্তী জেলাগুলোর রিসোর্ট ও পিকনিক স্পষ্টগুলোতে লাইকি বা টিকটককে ঘিরে আয়োজন করা হয় সুইমিং পার্টি। যার আড়ালে চলে দেহ ব্যবসার অভিযোগও গণমাধ্যমে  উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্টজন উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে মতামত ব্যক্ত করেছেন। অপরাধ বিশ্লেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, অ্যাপকেন্দ্রিক নৈতিক অবক্ষয়ের পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
অপরাধ বিশ্লেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেছেন, লাইকি-টিকটক অ্যাপ হচ্ছে যৌনতার যোগসূত্র। এর মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়ে নোংরামি হয়।
সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক মনে করেন, এই ধরনের সংস্কৃতির সাথে শিশুরা যদি অভ্যস্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ অসুস্থ ভাবেই চলবে।
প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, অ্যাপসগুলো দেশি বা বিদেশি হোক বাংলাদেশে এরকম অপরাধমূলক কাজ করলে ব্যবস্থা নেয়া যায়। প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলছেন, তারা এসব অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখবেন।
 সার্বভৌমত্ব , অখণ্ডতা এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো টিকটক এবং লাইকি নিষিদ্ধ করেছে । নৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে বাংলাদেশে টিকটক এবং লাইকির মত ভিডিও ভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত । এ বিষয়টি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে । আগামী  দিনে এসকল নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাচতে এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে বাংলাদেশে টিকটক এবং লাইকি বন্ধ করা জরুরী।
লেখক:  মারুফ আহমেদ মল্লিক 


লিড আরও

shares