পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বখাটের উৎপাতে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা: প্রধান আসামি গ্রেফতার

September 01 2019, 13:18

অনলাইন ডেস্ক// পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বখাটের উৎপাত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে রুকাইয়া আক্তার রূপা (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। রূপা ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

সে পৌর শহরের হোটেল ব্যবসায়ী রুহুল মুন্সির মেয়ে। চার ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় রূপা। এ ঘটনায় প্রধান আসামি বখাটে আরাফ হাসান তামিম খানকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে রূপার স্কুলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বখাটে তামিমসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

রূপার আত্মহত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বখাটে আরাফ হাসান তামিম খানসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে শনিবার বিকালে ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেন রুহুল মুন্সি। পরে সন্ধ্যায় প্রধান আসামি তামিম খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নাম উল্লেখ করা অন্য চার আসামি হল- রাইয়ান, ইরিন, সাজীব ও ওয়ালিদ।

রূপার বাবা রুহুল মুন্সি ও পরিবার সূত্র জানায়, উপজেলার নিজ ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মঞ্জু খানের বখাটে ছেলে তামিম খান কয়েক মাস ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে রূপাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করছিল। এর প্রতিবাদ করায় রূপার ছবি ফটোশপে অশ্লীলভাবে এডিট করে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয় বখাটে তামিম। শুক্রবার বিকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে প্রাইভেট পড়া শেষে বাসায় ফেরার পথে বখাটে তামিমের নেতৃত্বে কয়েকজন আবারও রূপার পথরোধ করে এবং তার সঙ্গে প্রেম না করলে এডিট করা ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বাড়ি ফিরে রূপা বিষয়টি তার মাকে জানায়।

রাত ১০টার দিকে রূপাকে ডাকতে গেলে তার রুমের দরজা বন্ধ পান বাবা। অনেক ডাকাডাকির পরও মেয়ের কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় রূপার পাশে ঘুমের ওষুধসহ বিভিন্ন ওষুধ পাওয়া যায়। রাতেই পরিবারের লোকেরা রূপাকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক কোনো চিকিৎসা না করেই রূপাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। রাত আড়াইটার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রূপা। পরে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শনিবার রাত ৯টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে রূপার লাশ গ্রামে আনা হলে উপস্থিত সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।

রূপার বাবা রুহুল মুন্সি বলেন, তামিম ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরাই আমার মেয়ের আত্মহত্যার জন্য দায়ী। আমি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।

রূপার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বখাটে তামিম খান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেলে পালিয়ে যায়। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপনের নেতৃত্বে পিরোজপুর ডিবি ও ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বখাটে তামিমকে গ্রেফতার করা হয়। হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, বখাটেকে নিজ ভাণ্ডারিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচনা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। তামিম খানসহ অন্যরা মেসেঞ্জারে রূপার এডিট করা ছবি ভাইরাল করায় তাদেরও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এদিকে রূপার স্কুলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বখাটে তামিমসহ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্কুলের সামনের সড়কে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে রূপার সহপাঠী রূপকথা রানী, মেঘা আক্তার, তাহিয়া তাইফুন রিমি, ঐশী আক্তার, আমিনা আফরোজ বক্তব্য দেয়। তারা রূপার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানায়।

রূপার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার বলেন, বখাটেদের উৎপাতে মেধাবী শিক্ষার্থী রূপার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। মেয়েটি স্কুলের কেবিনেট নির্বাচনে প্রথম হয়েছিল। আমরা মর্মাহত, শোকাহত। দ্রুত অভিযুক্ত বখাটেদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বখাটের উৎপাতে যেন আর কোনো মেয়ের জীবন বিপন্ন না হয়।