কুকুরের থাবা থেকে উদ্ধার সেই শিশু হাসপাতালেই বড় হচ্ছে

September 09 2019, 17:18

অনলাইন ডেস্ক// চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৩২ নং নবজাতক ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের একটি শয্যায় হাত-পা নাড়ছে। এদিক-সেদিক উকিও দিচ্ছে। জন্মের ২০ দিন পার হলেও মা-বাবার মুখ দেখেনি শিশুটি। ফলে আপন হলো হাসপাতালের চিকিৎসক আর নার্সরা। দিন কাটছে নিজের ঘরের বদলে হাসপাতালে। তত্ত্বাবধান করছে চমেক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি। তবে এখনো তার কোনো নাম রাখা হয়নি।

জানা যায়, গত ২০ আগস্ট নগরের আগ্রাবাদ বাতামতল মোড় থেকে কাকডাকা ভোরে রাতের দায়িত্ব শেষে ফুটফুটে এক নবজাতককে তিনটি কুকুর টানাটানি করতে দেখে উদ্ধার করেন ডবলমুরিং থানার এস আই মোস্তাফিজুর রহমান। নবজাতককে প্রথমে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল ও পরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চমেক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা এবং ওয়ার্ডের চিকিৎসক-নার্সদের সেবায় কুকুরের মুখ থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটি বড় হচ্ছে বলে জানা যায়।

চমেক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সাহা বলেন, ‘কুকুরের মুখ থেকে উদ্ধারের পর থেকে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা  রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে আছে চিকিৎসক ও  নার্সদের আন্তরিকতা। সে এখন সুস্থ আছে।’
তিনি বলেন, ‘এখনো শিশুটিকে কেউ নিতে আসেনি, তার নামও রাখা রাখা হয়নি। তাছাড়া কাউকে দেওয়ার ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হাসাপাতাল প্রশাসন এবং আদালতের নির্দেশনা মতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

চমেক হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান ডা. জগদীশ চন্দ্র বলেন, ‘কুকুরের মুখ থেকে উদ্ধার করা শিশুটি এখন সুস্থ আছে। তবে শতাধিক অসুস্থ শিশুর সঙ্গে একটি সুস্থ শিশু কি ভালো থাকতে পারে? যেকোনো সময় সে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শিশুটিকে ওয়ার্ড থেকে বাইরে অন্যত্র নেওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি।’

জানা যায়, ওইদিন নবজাতককে তিনটি কুকুর টানাটানির পর পাশেই ছিল শিশুর মানসিক ভারসাম্যহীন মা। কিন্তু তিনি ছিলেন নির্বাক। মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তিনি কেবল নিজের নামটাই বলতে পারেন, আয়েশা। তাকে আগেও গর্ভাবস্থায় ফুটপাতে শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তবে ওই দিনের পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি।