পৃথিবী থেকে ফুরিয়ে যাচ্ছে যেসব জিনিস!

September 24 2019, 10:34

অনলাইন ডেস্ক// পাখির অনেক প্রজাতি হারিয়ে গেছে, দেশীয় মাছ হারিয়ে যাবার পথে, পানির স্তরও কমে যাচ্ছে- এগুলো হয়তো অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু পৃথিবীর আরও অনেক সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে অথবা ঠিকমতো ব্যবহার না হওয়ায় বিলুপ্ত হতে বসেছে। যা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এবার সে রকম ৬টি বিষয় তুলে ধরা হলো-

১. কক্ষপথে জায়গা কমে যাচ্ছে
২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্ষপথে প্রায় পাঁচ লাখ বস্তু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। এর মধ্যে মাত্র ২ হাজার আছে স্যাটেলাইট কার্যক্রমে। যা দিয়ে যোগাযোগ, জিপিএস বা টেলিভিশন চালানো হয়। বাকি জিনিসগুলো রকেট নিক্ষেপণ এবং কক্ষপথে নানা সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া আবর্জনা।

কক্ষপথে থাকা এসব অপ্রয়োজনীয় এবং উচ্ছিষ্ট জিনিসপত্র পরিষ্কার করার প্রযুক্তি না থাকার ফলে পৃথিবীর চারদিকের কক্ষপথ ক্রমেই ভরে যাচ্ছে।

আবর্জনার সংখ্যা যত বাড়বে, কক্ষপথে ব্যস্ততা যত বেশি হবে, তখন এসব বস্তুর সঙ্গে আমাদের দরকারি উপগ্রহগুলো সংঘর্ষ হয়ে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।

২. বালি
পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি তুলে নেয়া কঠিন পদার্থ হলো বালি। যার সঙ্গে নুড়িও থাকে। জাতিসংঘ বলছে, প্রাকৃতিকভাবে যে হারে বালু তৈরি হয়, আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি হারে এর ব্যবহার করছি। বিশাল বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার, পানি বিশুদ্ধকরণ, এমনকি কাঁচ ও মোবাইল ফোন তৈরিতে বালি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বালি কমে গিয়ে ভঙ্গুর ইকো-সিস্টেমকে হুমকিতে ফেলছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী দাবি উঠেছে যে, বালির অত্যধিক ব্যবহারের ব্যাপারে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার।

৩. হিলিয়াম
হিলিয়াম গ্যাস সীমিত একটি সম্পদ। যা মাটির অনেক নীচ থেকে বের করে আনা হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এই গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। কোন কোন বিশেষজ্ঞ ধারণা, এই গ্যাসের আর মাত্র ৩০ থেকে ৫০ বছরের মজুদ রয়েছে। এই গ্যাসটি বেলুন ফুলাতেও ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু হিলিয়াম গ্যাস চিকিৎসায় খুব জরুরি একটি অনুসঙ্গ। এমআরআই করতে ব্যবহৃত চুম্বককে এই গ্যাস ঠাণ্ডা রাখে। এমআরআই হচ্ছে এমন একটি যুগান্তকারী রোগ নির্ণয়কারী ব্যবস্থা, যা ক্যান্সার, মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের আঘাত নির্ণয় করতে পারদর্শী।

৪. কলা
আমরা যে কলা খাই, তার বেশিরভাগ ক্যাভেন্ডিস জাতের। এই কলা ‘পানামা ডিজিজ’ নামের একটি ফাঙ্গাসে আক্রান্ত। কলা সরাসরি এসেছে একটি মাত্র গাছ থেকে, বাকিগুলো সব ক্লোন। ফলে কলা গাছের ভেতর পানামা রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

১৯৫০ সালে ঠিক একই রকমের একটি রোগে বিশ্বের কলা চাষ বন্ধ হয়ে যায়। তখন চাষিরা গ্রস মাইকেল জাত থেকে সরে এসে ক্যাভেন্ডিস জাতের কলা চাষ করতে শুরু করেন। বিজ্ঞানীরা এখন কলার নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন, যা এই ফাঙ্গাস প্রতিরোধ করতে পারবে, সেই সঙ্গে কলার স্বাদও বজায় থাকবে।

৫. মাটি