মন্দিরের ছয়টি প্রতিমা ভাংচুর করে চুরি ॥ সভাপতিসহ আটক-২

September 24 2019, 17:37

বরিশাল রিপোর্ট॥ জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব পতিহার গ্রামের সরকার (শীল) বাড়ির রাধা গোবিন্দ মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করে মন্দিরের স্ব^র্ণালংকার, পূজার মালামাল ও প্রনামীর টাকা চুরির রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটন করেছে থানার চৌকস ওসি আফজাল হোসেন।

মঙ্গলবার সকালে ওই বাড়ির একটি ঘর থেকে চুরি যাওয়া পূজার আংশিক মালামাল উদ্ধার করে ঘটনার সাথে জড়িত মন্দির কমিটির সভাপতি ও মামলার বাদি এবং পূজারী এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও চুরির ঘটনার পর থেকেই তিনি নিজেই আলোচিত মামলাটি মনিটরিং করছিলেন।

অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করার মধ্যদিয়ে চুরির রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, ওই বাড়ির মৃত সন্তোষ শীলের স্ত্রী মন্দিরের পুজারী আরতী রানী শীলের ঘর থেকে মন্দিরের ব্যবহৃত খোয়া যাওয়া ৫০টি ষ্টিলের থালা সকালে উদ্ধার করা হয়। এরপর আরতী রানীর স্বীকারোক্তিমতে রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য মামলার বাদি ও মন্দির কমিটির সভাপতি পরান চন্দ্র শীল ও আরতী রানী শীলকে আটক করা হয়। আটককৃতরা পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিমা ভাংচুর ও চুরির ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেও তদন্তের স্বার্থে তিনি (ওসি) তা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব হাওলাদার থানায় বসে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১৮ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা উল্লেখিত মন্দিরের গ্রীল ভেঙ্গে মন্দিরের ছয়টি প্রতিমা ভাংচুর করে প্রতিমার গায়ের স্বর্ণের টিপ, টিকলী ও প্রনামী বাক্সের টাকা এবং মন্দিরে পূজায় ব্যবহৃত কাসা পিতলের থালা বাসন চুরি করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরেরদিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি সহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি পরান চন্দ্র শীল বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।